ঢাকা প্রেসক্লাবকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুদান

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের চেক ঢাকা প্রেসক্লাবের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সমাজসেবা অধিদপ্তরের শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১, যাত্রাবাড়ী, ঢাকার সমাজসেবা অফিসার আবু নাইম মৃধা ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাদেক মাহমুদ পাভেলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।

ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন প্রাপ্তির পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারি অনুদান পেয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অনুদানের চেক হস্তান্তরকে ক্লাবের সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ঢাকা প্রেসক্লাবের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে পৃথক কমিটি বা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, একটি মহল একই নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ঐতিহ্যবাহী ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকা প্রেসক্লাবের নিবন্ধন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সরকারি পর্যায়ে স্বীকৃতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র রয়েছে। তাদের দাবি, কথিত কয়েকটি কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কখনোই ঢাকা প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন না। এ বিষয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের আদালতে মতামতও দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

ঢাকা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি যখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সরকারি পর্যায় থেকে অনুদান পাচ্ছে, তখন একই নামে পৃথক কমিটি বা সংগঠনের প্রচার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এতে শুধু ক্লাবের সদস্যদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় ও বৈধতা নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

এ বিষয়ে ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো দাবি বা বিরোধ থাকলে তা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নয়, বরং বিদ্যমান আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর মধ্যেই নিষ্পত্তি করা উচিত।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বিভ্রান্তি ও বিরোধ সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্টরা বাস্তবতা অনুধাবন করবেন এবং ঢাকা প্রেসক্লাবের নাম ও ভাবমূর্তি নিয়ে যে কোনো বিরোধ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।

চেক হস্তান্তরের সময় ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *