চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর চারঘাটে পারিবারিক সম্পত্তির দখল ও পুরোনো আর্থিক বিরোধের জেরে প্রবাসফেরত মোঃ মতিউর রহমান ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছোট ভাই মোঃ আবুল হাসান, বাবুল মোহাম্মদ কানু ও তাঁদের কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার মড়াসার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় মতিউর আহত হন। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং দুই বছরের ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ রহমানকে অপহরণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের ভাষ্য, স্ত্রী রোকশানা খাতুন ও সন্তানদের নিয়ে বাজার থেকে জোতরঘু গ্রামে শ্বশুর মোঃ মোস্তফা কামালের বাড়িতে ফিরছিলেন মতিউর। পথে কয়েকজন তাঁদের গতিরোধ করে তাঁকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। রোকশানা বাধা দিতে গেলে তাঁকে একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে গলায় থাকা স্বর্ণের নেকলেস ও হাতে থাকা এক জোড়া স্বর্ণের বালা নিয়ে যাওয়া হয়। স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকার কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজন শিশুটির মুখে কাপড় চেপে ধরে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যান।
মতিউর রহমান বলেন, “আমাকে মারধরের পাশাপাশি আমার স্ত্রী-সন্তানদেরও আক্রমণ করা হয়। ছোট ছেলেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করায় আমরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। যাদের সঙ্গে আমার সম্পত্তি ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল, তাদের ভাড়া করা লোকজনই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে বলে আমি মনে করি।”
তাঁর শ্বশুর মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। মতিউর আহত ছিল এবং পুরো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর সেকশন-১২, ব্লক-ই, রোড-২-এর হাউস নং ১৫-এ অবস্থিত ছয়তলা য়তলা ভবনটির মালিকানায় মতিউর ও তাঁর দুই ভাইয়ের সমান অংশ রয়েছে। মতিউর দেশে ফেরার পর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত তাঁর ছোট ভাই আবুল হাসান প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে মতিউরকে সম্পত্তির অধিকার ছেড়ে দিতে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। নিরাপত্তার আশঙ্কায় মতিউর পরিবার নিয়ে রাজশাহীতে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন।
অন্যদিকে, বাবুল মোহাম্মদ কানুর সঙ্গে মতিউরের বিরোধের সূত্রপাত কুয়েতে তাঁর বড় ভাই মোঃ আমিনুল ইসলামের ব্যবসায়িক ঋণকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, ৪৫ হাজার কুয়েতি দিনারের ঋণের মধ্যে ১০ হাজার দিনার পরিশোধের পর বাকি ৩৫ হাজার দিনারের জন্য মতিউর গ্যারান্টর হন এবং জামানত হিসেবে একটি চেক দেন। মতিউরের দাবি, পরে তিনি ওই ৩৫ হাজার দিনার নগদে পরিশোধ করলেও কানু চেকটি ফেরত দেননি। পরবর্তীতে সেই চেক ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং ওই মামলায় মতিউর ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেন। কারাভোগের পরও একই অর্থ পুনরায় দাবি করে মতিউর ও তাঁর পরিবারের ওপর চাপ, হুমকি ও হয়রানি অব্যাহত রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত এক চিকিৎসক জানান, মতিউরের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল; চিকিৎসা শেষে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুর আলম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বাবুল মোহাম্মদ কানু ও আবুল হাসানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

